সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলের চাদ সীমান্তবর্তী আল-টিনা শহরের একটি জনাকীর্ণ বাজারে দেশটির বিদ্রোহী আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স’ (আরএসএফ) ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সংঘটিত এই বর্বর হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই নারী। স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে আরব নিউজ এই প্রাণঘাতী হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আল-টিনা বাজারের একটি সুনির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই স্থানটিতে স্থানীয় নারী চা ও খাদ্য বিক্রেতারা প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে একত্রিত হয়েছিলেন। আকস্মিক ও শক্তিশালী এই ড্রোন বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী ভয়াবহ সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে ছিন্নভিন্ন ১৪টি মরদেহ দেখতে পাই। নিহতদের প্রায় সবাই অসহায় নারী, যাঁরা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই পরিস্থিতিতে পরিবার বাঁচানোর তাগিদে বাজারে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন।”
সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যকার চলমান এই রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াইয়ে বাজার, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকার মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলো এখন নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা ও যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করলেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাদ সীমান্তবর্তী আল-টিনা শহরটি ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই পক্ষই মরিয়া, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

