হাওরাঞ্চলের বোরো ফসলকে আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ১৩টি নদী ড্রেজিংয়ের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রায় এক হাজার ৪২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী খনন, খাল পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর ফলে এক লাখ ৬৫ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুরমা, বাউলাই, ধনু, ঘোড়াউত্রা, আপার মেঘনা ও সোমেশ্বরীসহ ১৩টি নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ১৬টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর তলদেশে পলি ও বালু জমে পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যায় হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলের পাহাড়ি ঢল দ্রুত হাওর এলাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বন্যার পানি দীর্ঘসময় আটকে থাকে। ফলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি কমে আসবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ধান আগাম বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

