চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাবেক কয়েকজন নেতা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রাতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত কাউসার আহমেদ নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা এবং বিএসআরএম কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন সাবেক নেতা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করেছেন। যদিও পুলিশ বলছে, নিহতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাহাড়তলী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিন লাবু জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারে ওই যুবক কীভাবে পৌঁছেছিলেন এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

