প্রধান খবর

শাপলা চত্বরে ৫৮ জন নিহতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি ট্রাইব্যুনালের

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত অভিযানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের চার জেলায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক সেই সহিংসতায় কেবল ঢাকাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তকারী সংস্থা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করেছে। ২০১৩ সালের সেই মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে ঠিক কতজন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধোঁয়াশা ছিল।

শাপলা চত্বরের সেই ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচির ভয়াবহতা ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ৬১ জনের নাম প্রকাশ করেছিল, আবার হেফাজতের পক্ষ থেকে ৯৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাইব্যুনাল এখন সরকারিভাবে ৫৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তে নিশ্চিত করল। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ঘটনার বিচারে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন হেফাজত নেতা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। আসামিদের তালিকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামও রয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের মতে, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *