জার্মান ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব শালকে ০৪ দীর্ঘ তিন মৌসুমের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও দেশটির সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতা বুন্দেসলিগায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছে। শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্তরের বুন্দেসলিগায় ফরচুনা ডুসেলডর্ফকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা এই মাইলফলক স্পর্শ করে। লিগে এখনও দলটির দুটি ম্যাচ বাকি থাকলেও পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান এবং অন্তত দ্বিতীয় স্থানটি গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাদের মূল লিগে খেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ১৩তম মিনিটেই ভাগ্য নির্ধারণী গোলটি করেন শালকের অধিনায়ক কেনান কারামান। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষ থাকা শালকের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬৭ পয়েন্ট, যা তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে ১০ পয়েন্ট বেশি। জার্মানির ফুটবল আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিভাগের শীর্ষ দুই দল সরাসরি প্রথম বিভাগে উন্নীত হয়। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আবেগাপ্লুত অধিনায়ক কারামান জানান, এই মুহূর্তটির জন্য ক্লাবের সমর্থক ও পুরো শহর দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যালারিতে কড়াকড়ি থাকলেও ম্যাচ শেষে আতশবাজি ও গানে উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা।
শালকের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে মূল কারিগর হিসেবে দেখা হচ্ছে গত গ্রীষ্মে দায়িত্ব নেওয়া কোচ মিরন মুসলিচকে। ক্রীড়া পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ব্যোমানের জহুরি চোখে ৪৩ বছর বয়সী মুসলিচ সংকটে থাকা দলটিকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেন। এছাড়া গত জানুয়ারিতে বসনিয়ান তারকা স্ট্রাইকার এডিন জেকোর অন্তর্ভুক্তি দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ৪০ বছর বয়সেও লিগে ৯ ম্যাচে ৬ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। যদিও চোটের কারণে শেষ কয়েকটি ম্যাচ তিনি খেলতে পারেননি, তবে তার অভাব বুঝতে দেননি মালির ফরোয়ার্ড মুসা সিলা।
গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় বিভাগ থেকে শীর্ষ লিগে ওঠার স্বাদ পেল শালকে। ২০২১ সালে অবনমনের শিকার হওয়ার পর ২০২২ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরলেও ২০২৩ সালে আবারও দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গিয়েছিল। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করল। দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জেতার দৌড়েও বর্তমানে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্যাডারবর্নের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

