প্রধান খবর

ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন: ইয়ামাল-ওয়ারসাবালের চমকে ফরাসিদের বিদায়

 মাঠের উত্তেজনা আর কৌশলগত লড়াইয়ে ফ্রান্সকে পরাস্ত করে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে জমে ওঠা এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ১-০ গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মাঠ ছাড়ে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের একের পর এক আক্রমণ নসাৎ করে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ ও গোলকিপার উনাই সিমন দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের নবম মিনিটে দানিল ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি কিক আদায় করলে প্রথম সুযোগ পায় স্পেন। তবে আলেক্স বায়েইনার নেওয়া কিকটি ফরাসি রক্ষণ দেয়ালে লেগে প্রতিহত হয়। এর কিছুক্ষণ পরই, ১৪ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গতি বাড়িয়ে স্পেনের বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কুবারসি ও লাপোর্তে নিজেদের পজিশন ধরে রেখে তাকে দারুণভাবে রুখে দেন।

খেলার ২০তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস ফরাসি লেফটব্যাক দিনিয়ে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। সেখানে ওত পেতে থাকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন তিনি। রেফারি সাথে সাথেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ১৯ বছর ১ দিন বয়সী ইয়ামাল এই পেনাল্টি আদায়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন। ২৩তম মিনিটে সফল পেনাল্টি কিকে স্পেনকে এগিয়ে নেন মিকেল ওয়ারসাবাল। ফরাসি কিপার মাইগনান সঠিক দিকে ডাইভ দিলেও বলের নাগাল পাননি। পিছিয়ে পড়ার পর দলের সেন্টার ব্যাক উইলিয়াম সালিবা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে ফ্রান্সের সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

বিরতির আগে ও পরে উভয় দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোলটি পায় লা রোজারা। প্রথম দফায় ওলমো ও ওইয়ারজাবাল সুযোগ হাতছাড়া করলেও, বল চলে যায় পেড্রো পোরোর কাছে। ওলমোর সাথে ওয়ান-টু খেলে চমৎকার শটে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান পোরো। এর তিন মিনিট পর ইয়ামাল একক চেষ্টায় আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

শেষ ১০ মিনিটে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। তবে স্প্যানিশ গোলকিপার সিমন এবং ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ফরাসিদের সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ৮৯ মিনিটে এমবাপের নেওয়া শেষ শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে ফ্রান্সের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় এবং ফাইনালে উল্লাসে মাতে স্পেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *