অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের প্যারাফিল্ড বিমানবন্দরে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের পাশের একটি হ্যাঙ্গারে (বিমান রাখার শেড) আছড়ে পড়ে। এতে বিমানের আরোহী ২ জন নিহত এবং হ্যাঙ্গারে কর্মরত আরও ১১ জন কর্মী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ডায়মন্ড ডিএ-৪২ (Diamond DA42) মডেলের দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করছিল। এ সময় যান্ত্রিক গোলযোগ বা অন্য কোনো কারণে সেটি সরাসরি একটি হ্যাঙ্গারে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে এবং হ্যাঙ্গারটিতে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আশপাশের এলাকা খালি করে দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনায় বিমানের চালক ও এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। হ্যাঙ্গারের ভেতরে কাজ করার সময় বিমানের আঘাতে ও আগুনে ১১ জন কর্মী দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের রয়্যাল অ্যাডিলেড হাসপাতালে এবং বাকি সাতজনকে লায়েল ম্যাকইউইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্যারাফিল্ড বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থা (ATSB) দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। রাজধানী ক্যানবেরা ও ব্রিসবেন থেকে বিশেষজ্ঞ দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তারা বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও ব্ল্যাক বক্সসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ করছেন।
প্যারাফিল্ড বিমানবন্দরে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এর আগে গত জানুয়ারিতে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলেও চালক অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পুনরায় একই বিমানবন্দরে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিমান চালনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রম সীমিত রাখা হবে।

