প্রধান খবর

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণদের নিয়ে সফল ‘যুব হাইকিং’: আদর্শ কমিউনিটি গড়ার প্রত্যয়

অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সফল ‘যুব হাইকিং’ (Youth Hiking Program) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্লেনকোয়ারি ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (GIEYDC) এবং নেক্সটজেন (NextGen)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রবাসী তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এই আয়োজন সিডনির প্রবাসী কমিউনিটিতে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার মনোরম প্রাকৃতিক বুশল্যান্ডে (পাহাড়ি বনাঞ্চল) এই হাইকিং কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেওয়া তরুণরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যান্ত্রিক জীবন থেকে একদিনের জন্য দূরে থেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর চমৎকার সুযোগ পান। পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি তারা দলগতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

মূলত প্রবাসী তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের আলোকে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক নেতৃত্বের চর্চা উৎসাহিত করাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পুরো হাইকিং জুড়ে অংশগ্রহণকারী কিশোর ও তরুণরা একে অপরকে পথ চলতে উৎসাহিত করেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করেন এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করে নেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আউটডোর কার্যক্রম কেবল শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না; বরং মানসিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সহমর্মিতা এবং সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আজকের এই তরুণরাই ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশি তথা মুসলিম কমিউনিটির যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বে পরিণত হবে।

গ্লেনকোয়ারি ইসলামিক সেন্টার (GIEYDC) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য শুধু একটি প্রথাগত মসজিদ নির্মাণ করা নয়; বরং এমন একটি স্থায়ী ও সমৃদ্ধ ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শিশু, কিশোর, তরুণ এবং পরিবারগুলো নিয়মিত শিক্ষামূলক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবে। প্রকল্পের জমি বা স্থাপনা নিষ্পত্তির চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে আসায় তারা কমিউনিটির সর্বস্তরের সদস্যদের দোয়া, উৎসাহ এবং আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *