ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুনেতে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (Waste-to-Energy Plant) ল্যান্ডফিলের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। টানা ও ভারী বর্ষণের জেরে সৃষ্ট এই বিপর্যয়টি পুনের শিল্পাঞ্চলে তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, পুনের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘অ্যান্টনি ওয়েস্ট প্ল্যান্টে’ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহতের তথ্য ও বিবৃতি প্রকাশ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম ও রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাতের কারণে কারখানার পাশের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা কয়েক হাজার টন বর্জ্য ও আবর্জনা মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই সেই বিশাল আবর্জনার পাহাড় ধসে সরাসরি পাশে অবস্থিত প্রশাসনিক ভবনের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার মুহূর্তে ওই প্রশাসনিক ভবনটির ভেতরে ২৩ জন কর্মী দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আবর্জনার স্তূপ ধসে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং কর্মীরা ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় দমকল বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবেলা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বৃষ্টির মাঝেই উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকি ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং সাময়িকভাবে এর সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরিবেশ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়ার রূপ প্রতিনিয়ত তীব্র ও অনিয়মিত হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শক্তিশালী ‘এল নিনো’র প্রভাব ভারতের স্বাভাবিক আবহাওয়া চক্রকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যার ফলে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির মতো ঘটনা ঘটছে। সাধারণত ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জরাজীর্ণ ভবন ধস ও ল্যান্ডফিল ধসের মতো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। পুনের এই মর্মান্তিক ঘটনাটিও তেমনই একটি চরম প্রাকৃতিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

