জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সুইডিশ বিশ্বখ্যাত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। বহুজাতিক অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং মানবাধিকার মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের কাছে অবস্থিত রাইনমেটালের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে একদল প্রগতিশীল আন্দোলনকারী তীব্র বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ হলো—এই জার্মান প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ফিলিস্তিনের গাজা এবং লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নৃশংস অভিযানে সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ বেসামরিক মানুষের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
কৌশলগত এই বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন গ্রেটা থুনবার্গ। তিনি সংবাদমাধ্যম ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বর্তমান সময়ে আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি রাইনমেটালের নতুন যুদ্ধাস্ত্র কারখানা স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করার এবং ইসরাইলে সব ধরনের সামরিক চালান পাঠানো বন্ধের জোর দাবি জানান। থুনবার্গ আরও যোগ করেন, “গাজায় গণহত্যা বন্ধ করুন”—কেবল এই মানবিক আহ্বান জানাতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সরবরাহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালেই বার্লিন পুলিশ আকস্মিকভাবে সেখানে হানা দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা গ্রেটা থুনবার্গকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। তবে তাঁকে ঠিক কতক্ষণ পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বার্লিন পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই গ্রেফতারের ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

