প্রধান খবর

৪০ দিন পর মুসলিমদের জন্য খুলে দেওয়া হলো আল-আকসা মসজিদ

দীর্ঘ ৪০ দিনের সামরিক বিধিনিষেধ শেষে মুসলিমদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে মসজিদটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রায় ৩০০০ ফিলিস্তিনি মুসল্লি সেখানে ফজর নামাজ আদায় করেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর মসজিদের ফটকগুলো খুলে দেওয়া হলে মুসল্লিরা আবেগাপ্লুত হয়ে আঙিনায় প্রবেশ করছেন। রমজান, ঈদুল ফিতর এবং একাধিক জুমার নামাজের সময়ও এই পবিত্র স্থানটি বন্ধ রেখেছিল ইসরায়েল। ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতায় ফজর নামাজের আগেই পুরো চত্বর প্রস্তুত করা হয়।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই দীর্ঘ অবরোধের পেছনে ইরান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করলেও ফিলিস্তিনিরা একে ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ইসরায়েল আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, যখন মুসলিমদের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছিল, তখন জেরুজালেমের অন্যান্য স্থানে ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই দ্বিচারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে।

বহু দশক ধরে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা অনুযায়ী আল-আকসা মসজিদের দেখভাল ও প্রার্থনার দায়িত্ব মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকার কথা। কিন্তু মসজিদটি খোলার পরপরই দেখা গেছে এক উদ্বেগজনক পরিবর্তন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের প্রবেশের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত—মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা ইসরায়েলিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। আগে এই সময়সীমা অনেক কম ছিল। বৃহস্পতিবার ফজর নামাজের পর মুসল্লিদের বের করে দিয়েই কড়া পুলিশি পাহারায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ করতে দেখা যায়, যারা সেখানে প্রার্থনা ও নাচে অংশ নেয়।

জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি আল-আকসায় নতুন বাস্তবতা এবং ‘সময়ভিত্তিক বিভাজন’ চাপিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড, যেখানে দখলদার শক্তি কোনো ধরনের স্থায়ী পরিবর্তন বা সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। আল-আকসা নিয়ে এই নতুন বিধিনিষেধ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *