বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার চমকপ্রদ অগ্রগতি!

টাইমস হায়ার এডুকেশনের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৬ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর। এই বৈশ্বিক তালিকায় ১১৫টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ২,১৯১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ৯৮.২ স্কোর অর্জন করে প্রথম স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওশেনিয়া মহাদেশের উন্নত ও শান্তিপ্রিয় দেশ অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষায় আধুনিকায়ন ও বিশ্বমানের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে (THE) র‌্যাংকিং ২০২৬-এ দেশটির বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় শক্ত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৬ এর তালিকায় এবার অস্ট্রেলিয়ার মোট ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় একেবারে বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এই র‍্যাংকিং-এ দেশটির ইউনিভার্সিটি অব মেলবর্ন ৭৯ স্কোর নিয়ে বৈশ্বিক তালিকায় ৩৭তম স্থানে রয়েছে।

দ্য ইউনিভার্সিটি অব সিডনি ৭৫ স্কোর নিয়ে ৫৩তম স্থানে এবং আরেকটি সিডনির বিশ্ববিদ্যালয় ৭৪.১ স্কোর নিয়ে ৫৮তম স্থানে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৭১.১ স্কোর নিয়ে ৭৩তম স্থানে, UNSW Sydney ৭০ স্কোর নিয়ে ৭৯তম স্থানে এবং ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড ৬৯.৭ স্কোর নিয়ে ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট অনুযায়ী ২০২৬ সালে স্কুলগুলোর জন্য প্রায় ৩৩.১ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং কমনওয়েলথ-সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, প্রারম্ভিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার এবং শিশু যত্ন কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বিনিয়োগগুলো অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা ও উন্নত গবেষণার উপর দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সংস্কারের সুফল দেশটি ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছে, যা বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

লেখা: সিরাজুর রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *