বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্পিন বোলিং মেশিন। সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের স্কিল ক্যাম্পে এই বিশেষ মেশিনটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সাধারণত ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে স্পিনারের ঘাটতি মেটাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও, টাইগার ব্যাটারদের স্পিন দক্ষতা আরও নিখুঁত করতেই বিসিবি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস জানিয়েছেন, ‘মার্লিন বাইবোলা’ নামের এই মেশিনটি কিনতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ লাখ টাকার সমান। মেশিনটি বেশ ভারী হওয়ায় আকাশপথের পরিবর্তে সমুদ্রপথে জাহাজে করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এর আগে দেশের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডগুলোতে কেবল দ্রুতগতির পেস বোলিং মেশিন দেখা গেলেও স্পিন বোলিং মেশিন এবারই প্রথম।
এই মেশিনের কারিগরি সুবিধা নিয়ে শাহরিয়ার নাফীস জানান, এটি দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার—এই তিন ধরনের ডেলিভারিই অনুশীলন করা সম্ভব। এছাড়া বলের লেন্থ পরিবর্তন এবং গতি কমানো-বাড়ানোর নিয়ন্ত্রণও রয়েছে কোচেদের হাতে। মেশিনটি ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক-উভয় মোডেই চালানো যায়, যেখানে অটোমেটিক মোডে বিরতিহীনভাবে ২৫ থেকে ৩০টি বল মোকাবিলা করতে পারবেন ব্যাটাররা।
আধুনিক ক্রিকেটে রিস্ট স্পিনার ও বৈচিত্র্যময় স্পিনের দাপট মোকাবিলায় এই মেশিনটি জাতীয় দলের ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে লুপ, টার্ন এবং বাউন্সের নিখুঁত বৈচিত্র্য থাকায় নেটে নেট বোলারদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘক্ষণ নির্দিষ্ট ঘরানার স্পিন খেলার সুযোগ পাবেন শান্ত-লিটনরা। বিসিবির এই নতুন সংযোজন ঘরোয়া ক্রিকেটেও আধুনিকায়নের বড় এক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

