টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে দেশে ফেরা অদম্য যুবাদের জন্য এবার এল রাজকীয় উপহার। ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা এই তরুণ ফুটবলারদের প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার জাতীয় ক্রীড়া দিবসে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল।
গত শনিবার রাতে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরার পর থেকেই বাঘের বাচ্চাদের জন্য পুরস্কারের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে, যেখানে জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সম্মানিত করা হয়। সেই রাতেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১ লাখ টাকা এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিল। এর পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আর্থিক প্রণোদনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে সবচেয়ে বড় চমকটি জাতীয় ক্রীড়া দিবসের জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, ফুটবলারদের জন্য বিশেষ কিছু অপেক্ষা করছে। আজ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি মাসিক বেতনের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুবারা এখন আর্থিক নিশ্চয়তা নিয়ে মাঠের খেলায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে পারবেন বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। সরকারের এই সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা তরুণ প্রতিভাদের মূল জাতীয় দলে উঠে আসার পথকে আরও সুগম করবে।
সাফজয়ী এই দলটির অসাধারণ নৈপুণ্যে পুরো দেশ যখন উল্লাসে ভাসছে, ঠিক তখনই মন্ত্রণালয়ের এই বেতন কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত ফুটবলারদের সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাইপলাইনে থাকা অন্য ফুটবলারদের জন্যও এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের এই বিশেষ উপহার বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর দিনগুলোতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে ক্রীড়া প্রেমীদের বিশ্বাস।

