প্রধান খবর

হরমুজ প্রণালী খুলতে ট্রাম্পের হুমকি, প্রত্যাখ্যান ইরানের নৌবাহিনীর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম সামরিক হুঁশিয়ারি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ‘নতুন শৃঙ্খলা’ বা নিউ অর্ডার কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জাহাজগুলোর যাতায়াতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অন্য বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আরোপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তাদের দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের মাধ্যমে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের কর্মকর্তাদের ঘোষিত নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য তারা এখন চূড়ান্ত অপারেশনাল প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক টোল আদায়ের আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। শিপিং ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, ইরান ইতিমধ্যে সেখানে এক ধরনের ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে এবং কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ান বা ইরানি রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করে যাতায়াত শুরু করেছে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম শিখরে পৌঁছেছে। গত রবিবার এক এক্স-পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই বার্তাকে ‘নরকের মুখোমুখি হওয়ার’ হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান এখন তাদের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ রয়টার্সকে বলেন, ইরান বুঝতে পেরেছে যে এই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং কৌশলগত সুবিধা প্রদান করছে। ২১ মাইল চওড়া এবং মাত্র ২ মাইল প্রশস্ত এই জাহাজ চলাচলের পথটি রুদ্ধ করে দিয়ে তেহরান মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এক ‘ব্যাপক বিপর্যয়’ সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *