ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দেশটির স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ‘হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি এবং একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলা চালানোর অর্থ কী? একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রেড ক্রস, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এবং বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদ জানান।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়লে যৌথভাবে ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলা চালিয়েছে। এটি ১৯২০ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট ও ইরান সরকারের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ জনস্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র।’
তিনি এই হামলাকে ‘হৃদয়বিদারক, নিষ্ঠুর এবং জঘন্য’ আখ্যা দেন। তবে এতে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য তিনি জানাননি।
এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা, ভ্যাকসিন ও জৈব পণ্য উৎপাদন এবং উন্নত পরীক্ষাসেবা প্রদান করে। গুটি বসন্ত ও কলেরার মতো রোগ মোকাবিলায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি ও হাম প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাসহ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানান, এই প্রতিষ্ঠানের দুটি বিভাগ ডব্লিউএইচওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল। তিনি বলেন, ‘ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান সংঘাতের ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।’
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শুধু পাস্তুর ইন্সটিটিউট-ই নয়, তারা ইরানজুড়ে আরও বেশ কিছু স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, বুশেহর প্রদেশে রেড ক্রিসেন্ট গুদামঘর, ইরানের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তোফিগ দারু, দেলারাম সিনা মানসিক হাসপাতাল, আলি হাসপাতাল এবং গান্ধী হাসপাতাল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সুরক্ষা রোগী, চিকিৎসাকর্মী এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
২০১৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৮৬ নম্বর প্রস্তাবে স্বাস্থ্যসেবার ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

