প্রধান খবর

টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে চীন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একেবারে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে চীন যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশটি এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ, চীনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৮৯ টেরাওয়াট, যা ৩৮ লক্ষ ৯০ হাজার মেগাওয়াট-এর সমান।

চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নিউজ এজেন্সি (CRI) এর হালনাগাদ তথ্যমতে, দেশটির ২০২৫ সালে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩.৮৯ টেরাওয়াট। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) ও অন্যান্য উৎসে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩.২-৩.৩ টেরাওয়াট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ আসে সোলার প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন থেকে। বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য সবুজ শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে চীন সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদন করে প্রায় ১.২ টেরাওয়াট, জলবিদ্যুৎ ৪৩৬ গিগাওয়াট এবং উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে প্রায় ০.৬৪ টেরাওয়াট বিদ্যুৎ।

অর্থাৎ, শুধু সোলার ও বায়ু মিলিয়েই চীনের হাতে রয়েছে আনুমানিক ১.৮৪ টেরাওয়াট সবুজ শক্তি উৎপাদন সক্ষমতা। প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১.৩ টেরাওয়াট (১৩ লক্ষ মেগাওয়াট)। অর্থাৎ, চীন বর্তমানে শুধু সোলার বিদ্যুৎ থেকেই যতটুকু শক্তি উৎপাদন করে, তা প্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সমান হবে।

২০২৪ সালের আপডেট তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ১.৩ টেরাওয়াট (IEA এর মতে ১.২৫ টেরাওয়াট)। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪২.৭ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস ও ১৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এছাড়া বাকি অংশ আসে পারমাণবিক, সোলার প্যানেল এবং উইন্ড টারবাইননির্ভর নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে।

অপরদিকে, চীন একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিগত তিন দশক ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় শতশত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সেই বিনিয়োগের সুফল এখন সরাসরি ভোগ করছে দেশটি।

বিশেষ করে দেশীয় শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিশ্বের কারখানা বা ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে’ পরিণত হওয়ার পেছনে চীনের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে চীন বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদন শৃঙ্খলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ১৫-১৮ শতাংশ একাই নিয়ন্ত্রণ করে।

পরিশেষে বলা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীন এখন অন্য কোনো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মত্ত নয়; বরং তাদের মূল লক্ষ্য নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। আগামী এক দশকে সারা বিশ্বে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা আকাশছোঁয়া হবে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতে প্রয়োজন হবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।আর চীন এখন নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে শুধু নেতৃত্বই দিচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের চাহিদা পূরণের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *