সুদূর প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনা পৌঁছে দিতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যথাযথ মর্যাদায় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের ৫৫তম বর্ষ উদযাপন করেছে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল। গত ২৯ মার্চ (রোববার) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সংগ্রামের ইতিহাস। তাদের আঁকা এসব চিত্রকর্ম স্কুলের বিলবোর্ডে প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ও ভূমিসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন স্কুলের সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল রোজারিও।
সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। প্রথম পর্বে স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে একাত্তরের বীরত্বগাথা তুলে ধরে। এই পর্বটি সফলভাবে পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী- শায়লা ইয়াসমিন নুসরাত, অনিতা মন্ডল, বিশাখা পাল, নুশরাত মৌরী, সায়মা হক, অনিতা বিশ্বাস মীরা এবং সংগীত শিক্ষক স্বপ্না চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ আকর্ষণ ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর সামসুল আলম বীর প্রতীক-এর উপস্থিতি। তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রবাসে থেকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলা ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করার আহ্বান জানান। স্কুলের সভাপতি কাজী আশফাক রহমান তাঁর স্বরচিত কবিতায় মুক্তিযুদ্ধে নারী সমাজের অসামান্য ত্যাগের চিত্র তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে শামসুর রাহমানের কালজয়ী কবিতা ‘তোমাকে পাবার জন্য হে স্বাধীনতা’ আবৃত্তি করে দর্শক হৃদয়ে আবেগ সৃষ্টি করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও নাট্যজন মাজনুন মিজান। সমবেত কণ্ঠে ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর আলী এফ এম রেজওয়ান এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী আজিম সাগর।
অধ্যক্ষ রুমানা খান মোনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক লুৎফার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাইকে ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
উল্লেখ্য, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, যেখানে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পাঠ দান করা হয়।

