জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ আসতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫সহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি এখনো সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। যেসব অধ্যাদেশে মতৈক্য হয়নি, সেগুলো আপাতত বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংশোধন করে এসব অধ্যাদেশ নতুন করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব খাত পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত উদ্যোগ। বিশেষ করে বিচার বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ গঠনের পরিকল্পনাও আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘সাংবিধানিকতা’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাড়াহুড়ো করে জারি করা কিছু অধ্যাদেশে কাঠামোগত ত্রুটি ও বিতর্কিত ধারা রয়েছে, যা আরও পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশ উত্থাপন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের গতি ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, ত্রুটিপূর্ণ আইন পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে আরও গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

