প্রধান খবর

পারমাণবিক অস্ত্র না ছাড়লে ইরান নামে দেশই থাকবে না: ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ না করলে ইরানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধ, কূটনীতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও একাধিক মন্তব্য করেছেন মার্কিন রিপাবিলিকান এই প্রেসিডেন্ট।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না ছাড়ে, তাহলে দেশটি ‘টিকেই থাকবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তারা এখন বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র ছেড়ে দেবে। তারা আমাদের কাছে সবকিছু তুলে দেবে। তখন তারা আবার একটি ভালো দেশ হতে পারে। কিন্তু যদি তা না করে, তাহলে তাদের কোনও দেশই থাকবে না, একেবারেই থাকবে না।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আদায়ের ইরানের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সত্য কি না তিনি যাচাই করবেন। তবে এমন কিছু হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তা বন্ধ করে দিতে পারবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুই মিনিটের মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে পারি, এতো দ্রুত যে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, ‘তারা প্রথমে হামলার শিকার হয়ে বিস্মিত হয়েছিল। কিন্তু এরপর তারা ভালোভাবে লড়াই শুরু করেছে। আমাদের সঙ্গে তাদের শক্ত যোগাযোগ রয়েছে।’

স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার হাতে ‘অনেক অপশন’ রয়েছে এবং যুদ্ধের অগ্রগতি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে এবং তা ‘শিগগিরই’ সম্ভব।

মোজতবা খামেনির অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি তিনি জীবিত থাকতে পারেন, তবে সম্ভবত গুরুতর আহত’। ১৫ দফা পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাদের বেশিরভাগ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। আমরা আরও কিছু বিষয় তুলব।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে এবং তেহরানে ইতোমধ্যেই ‘সরকার পরিবর্তন’ ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আজ ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা এমন অনেক বিষয় দিচ্ছে, যা অনেক আগেই দেয়া উচিত ছিল।’

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দিনটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনা খুব ভালো চলছে। তবে কখন কী হয়, বলা যায় না। কারণ আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করি, আবার বোমা হামলাও চালাতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবো, আমি বেশ নিশ্চিত। তবে না-ও হতে পারে’। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে ইতোমধ্যেই একাধিক স্তরে নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নতুন একটি নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *