দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের বড় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী জুলাই-আগস্টে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ শিশুকে টিকা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় টিকা দেশে পৌঁছেছে এবং এপ্রিলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, করোনা-পরবর্তী সময়ে টিকা কার্যক্রমের বিঘ্ন এবং অপুষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে হামের পুনরুত্থান ঘটেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সাধারণত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে গুরুতর আক্রান্তদের ক্ষেত্রে আইসোলেশন ও নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ ও বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনা, ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ একাধিক অঞ্চলে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে এবং কিছু স্থানে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অনেক হাসপাতালে শয্যাসংকট দেখা দেওয়ায় অস্থায়ী আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে করিডোর বা মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

