ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে বাধ্য করার অংশ হিসেবে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের অন্তত চারটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে নিশ্চিত করেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে না পারলে যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব নয়। এদিকে এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপ দখলের যেকোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে পারলে তবেই এমন অভিযান শুরু হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলেছে, “ইরানিদের আরও দুর্বল করতে আমাদের প্রায় এক মাস ধরে হামলা চালাতে হবে। এরপর দ্বীপটি দখল করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। এতে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।”
এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে আরও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন খুব শিগগিরই অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “তিনি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এটি নিশ্চিত করতে খারগ দ্বীপ দখল করতে হয়, তাহলে তা-ই করা হবে। উপকূলীয় আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নিলে সেটিও হবে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”

