প্রধান খবর

মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম রেকর্ড আকাশচুম্বী, পৌঁছেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের ক্রুড তেল। একই সঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা। আর এর প্রভাব পড়ছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও।

মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্কগুলো রেকর্ড উচ্চতায় উঠে গেছে।

আগামী মে মাসে সরবরাহযোগ্য কার্গোর জন্য ‘ক্যাশ দুবাই’ তেলের দাম সোমবার (১৬ মার্চ) ব্যারেলপ্রতি ১৫৩ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছায়, যা নতুন রেকর্ড। এর মাধ্যমে ২০০৮ সালে ব্রেন্ট ফিউচারসের সর্বোচ্চ ১৪৭ দশমিক ৫০ ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে ওমান ক্রুড ফিউচারসের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ মাসে এশিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কমে দৈনিক ১ কোটি ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল। ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় তা প্রায় ৩২ শতাংশ কম।

এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার প্রারম্ভিক লেনদেনে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ০৮ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৫ ডলারে পৌঁছেছে।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে কি না এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কবে নাগাদ কমবে- এ নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে বলে খবর পাওয়ার পর সোমবার কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এর ফলে দিনের শেষদিকে তেলের দাম সামান্য কমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচকগুলোতে এই প্রবণতা দেখা যায়। পূর্ব এশিয়ার এই দেশ দুটি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া প্রযুক্তি খাতের শেয়ারও কসপিতে উত্থানে ভূমিকা রাখছে। চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের বিক্রি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়ায় এবং বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে একাধিক চুক্তির ঘোষণা দেয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *