কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষিকার নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান অপ্রতিমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি বিনোদন পার্কের পাশের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বের হয় অপ্রতিম। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
সন্তান নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মা, কুবি শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। ছেলেকে দ্রুত খুঁজে পেতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়ে আকুতি জানান তিনি। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
অবশেষে শনিবার দুপুর একটার দিকে কোটবাড়ির ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ পার্ক সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গলে অপ্রতিমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কোটবাড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে অপ্রতিমের মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত ও জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভুঁইয়া জানান, শিশুটির সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার ও মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষিকার একমাত্র সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও কোটবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

