১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং সংসদে গঠনমূলক সমালোচনা করাই বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখায় বলা হয়েছে, সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত। কিন্তু সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আলোচিত বিভিন্ন দাবি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি এ কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে লেখায় দাবি করা হয়েছে। একইভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো আর্থ-সামাজিক সংকটও সরকারের নজরে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সময় প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক ঐক্য ও সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
লেখকের মতে, সংসদের বাইরে ধারাবাহিক লং মার্চ ও রাজপথের কর্মসূচি সংসদীয় রাজনীতির সংস্কৃতিকে দুর্বল করতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। একই দাবিকে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গায় তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দল সমস্যার সমাধান চায়, নাকি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায় এ প্রশ্নের জবাব বিরোধী দলকেই দিতে হবে বলে লেখায় মত দেওয়া হয়েছে।

