‘উনি তো যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’-রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার আলোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন আন্নি আক্তার নামের এক নারী, যিনি নিজেকে এই পুলিশ কর্মকর্তার ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। শুক্রবার নগরের নাদের হাজির মোড় সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় সাবেক ওসি মাহবুব আলম ও অপর এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তিনি সাবেক ওসির বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
নওগাঁর বাসিন্দা, নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাহবুব আলম তাঁকে বিয়ে করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে মাহবুবের প্রতিটি কর্মস্থলেই এ ধরনের একাধিক সম্পর্ক ও গোপনে বিয়ের প্রবণতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আন্নি জানতে পারেন, সাবেক ওসি মাহবুব আলম তাঁর কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। সংবাদ পেয়ে শুক্রবার সকালে আন্নি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপায় না দেখে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ডেকে আনা হয় এবং তারা দরজা ভেঙে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর মাহবুব আলম ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নিকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে মাহবুব দাবি করলেও আন্নি জানান, তিনি এ সংক্রান্ত কোনো আইনি কাগজপত্র বা তালাকনামা পাননি। বর্তমানে চন্দ্রিমা থানায় তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই মাহবুব আলম কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন, যা স্পষ্টতই বড় প্রশাসনিক অপরাধ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালীন এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের খাম নেওয়ার গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

