পবিত্র কোরআনের মূল দর্শনের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হলেও কোরআনকে সরাসরি সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করেন যে সময় ও পরিপার্শ্বিক চাহিদার প্রয়োজনে যেকোনো সংবিধান সংশোধন ও পরিমার্জন করা যায়, কিন্তু কোনো ঐশ্বরিক ধর্মীয় গ্রন্থের মৌলিক বাণী পরিবর্তনযোগ্য নয়। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ‘কোরআনই আমাদের সংবিধান’ সংক্রান্ত এক সময়ের রাজনৈতিক স্লোগানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ধর্মীয় আদর্শের সাথে সাংবিধানিক কাঠামোর একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। কোরআনের সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধকে ধারণ করে নীতিনির্ধারণী সংবিধান রচিত হতে পারে; কিন্তু সংবিধান একটি পরিবর্তনশীল রাষ্ট্রীয় দলিল, আর ঐশ্বরিক বাণী চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়। এ সময় আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তা নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, উপর থেকে জোড়পূর্বক ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে না দিয়ে সমাজে নৈতিক ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সঠিক রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতি ও জীবনের নানা দিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উক্ত গবেষণা গ্রন্থটি কেবল একটি বই নয়, বরং এটি লেখকের জীবনদর্শন ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বইটিতে যে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি এই অবস্থানগুলো আরও আগেই স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হতো, তবে ঐতিহাসিক অনেক বিতর্ক ও বিভ্রান্তির অবসান আগেই ঘটতে পারত।
তরুণ প্রজন্ম ও পরিবর্তিত বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান মূলত নতুন প্রজন্মের কাঠামোগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বে থাকলেও নিজের মেধা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও স্বতন্ত্র চিন্তা দিয়ে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর সাহসী ভূমিকা ও প্রজ্ঞা সর্বজনবিদিত ছিল।

