প্রধান খবর

সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটে মাঝ আকাশে দুই যাত্রীর মারামারি

সিলেট থেকে লন্ডনগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মাঝ আকাশে দুই যাত্রীর মধ্যে মারামারির এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিবাদ ভয়াবহ হাতাহাতিতে রূপ নেয়, যা উড়ন্ত বিমানের ভেতরে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে। সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করার পর বিমানটি যখন মাঝ আকাশে, তখন এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে দুই যাত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। খুব দ্রুতই তা তীব্র বাকবিতণ্ডায় পরিণত হয় এবং একপর্যায়ে উভয় যাত্রী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

সিলেট-লন্ডন রুটের মতো একটি দীর্ঘ দীর্ঘযাত্রার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মাঝ আকাশে যাত্রীদের এই ধরনের সংঘাত অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানে থাকা অন্য সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা এই ঘটনায় অত্যন্ত ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একজন যাত্রী তার মোবাইলে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, দুইজন ব্যক্তি একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারছেন এবং অন্যান্য যাত্রীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করছেন।

মাঝ আকাশে বিমানে মারামারির মতো ঘটনা একটি গুরুতর অপরাধ এবং তা বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এই ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তবে, বিমানের ক্রু এবং অন্যান্য যাত্রীদের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে ঘটনাটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারেনি। ঘটনার পর বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর থেকে তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের অসভ্য আচরণের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। একটি আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইটে যাত্রীদের এমন আচরণ মোটেও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। বিমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীদের ভূমিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *