ইরানের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার গোলাবারুদের মজুদ ফুরিয়ে আসছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব প্রতিবেদনকে ‘১০০ ভাগ ভুল’ ও ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে বর্তমানে প্রায় সীমাহীন পরিমাণে মধ্য ও উচ্চ মানের গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুদ রয়েছে।
সম্প্রতি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এতে করে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং অন্য শত্রুপক্ষ মোকাবিলায় পেন্টাগনের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কার খবর সামনে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই খবরের কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন বিরোধীরা চায় যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে হেরে যাক, তাই তারা এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসজুড়ে নজিরবিহীন গতিতে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন ও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সামরিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সুইজারল্যান্ড, জাপান, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো মিত্রদের কাছে কিছু অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে বিলম্বিত হলেও শিগগিরই তা পুনরায় শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সাথে, জাতীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যেসব কর্মকর্তা বা ব্যক্তি অস্ত্র স্বল্পতার অবাস্তব তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করছেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনায় কোনো ঘাটতি নেই এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় পর্যাপ্ত অস্ত্র নিশ্চিত রয়েছে।

