প্রধান খবর

হিমালয় অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প : ধস ও বানের পর সীমান্তে নতুন আতঙ্ক

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ ধসের বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে হিমালয় অঞ্চল। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিব্বতে রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো হতাহত বা ভারী ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া না গেলেও এক সপ্তাহ ধরে বন্যা ও ধসে বিপর্যস্ত সীমান্তজুড়ে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৪৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে গত ২৬ আগস্ট জিরং সীমান্তের কাছে বিশাল একটি হিমবাহ ও পাহাড়ের শিলাস্তর ভেঙে নদীগর্ভে আছড়ে পড়লে আকস্মিক হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে ভূকম্পন যন্ত্রে ৫.২ মাত্রার তরঙ্গ ধরা পড়লেও বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি ছিল প্রকৃত ভূমিকম্প।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৭৩ জনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য মতে, নেপালে এ পর্যন্ত ১,২৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২১৬ জন। অন্যদিকে তিব্বতে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪১ জন। পাহাড়ি সড়ক ও সেতু ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়  গ্রামগুলোতে উদ্ধারকাজ চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে জাতিসংঘসহ স্থানীয় প্রশাসন তৎপরতা জোরদার করেছে।  জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং পোর্টারদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেনাসদস্যরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে নতুন করে ভূমিকম্পের কারণে উদ্ধার অভিযানে চরম ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *