সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই অষ্টমীতে ন্যায়নীতি ও সত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে ধরাধামে এসেছিলেন মহাবতার শ্রী কৃষ্ণ। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে সরকারি ছুটি । দিবসটি উপলক্ষে দেশের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও হিন্দু সম্প্রদায় পরম শ্রদ্ধায় দিনটি উদযাপন করছে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখন অসুর ও পাশবিক শক্তির তাণ্ডবে ন্যায় ও সুন্দর বিপন্ন হয়ে পড়েছিল, তখনই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। এই মূলসুরকে ধারণ করেই রাজধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে বিস্তৃত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও ইসকনসহ নানা সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন দিনব্যাপী উৎসবমুখর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ঢাকায় উদযাপনের মূল কেন্দ্র ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকেই গীতাযজ্ঞ ও প্রার্থনার মাধ্যমে শুভ সূচনা হয়। বিকেলে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে এক ঐতিহাসিক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী পথ অতিক্রম করে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। সরকারি প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) তিন দিনব্যাপী কীর্তন, ভজন, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ধর্মীয় নাটক ও প্রসাদ বিতরণের বিশাল আয়োজন করেছে।
দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)সহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মন্দির, শোভাযাত্রা ও উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত টহল এবং সাদা পোশাকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব কিংবা বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর সাইবার নজরদারির পাশাপাশি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখতে বিশেষ প্রস্তুত রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

