ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি খাবার খেয়ে অসুস্থ ১,৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি বিনামূল্যের খাবার খেয়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। গত তিন দিনে বিনামূল্যে পরিবেশন করা এই বিষাক্ত খাবার খেয়ে দেশটির বিভিন্ন স্কুলে ১,৭০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের মধ্য জাভার লাসেম এলাকার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। গত বুধবার দুপুরে স্কুলটিতে পরিবেশন করা গ্রিল করা মুরগির মাংস খাওয়ার পরই বিপত্তির সূচনা হয়। খাবার গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এক স্কুলেই ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক হঠাৎ ডায়রিয়া ও তীব্র বমিতে আক্রান্ত হন। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জুহারতুতিক জানান, ভোররাত ৩টার দিকে ওই মাংস রান্না করা হয়েছিল এবং তার বহু ঘণ্টা পর দুপুরে তা শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশন করা হয়। পরিবেশনের আগেই রান্না করা মাংসের কিছু অংশে পিচ্ছিল ভাব দেখা গিয়েছিল, যা খাবারটি পচে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখার ফলে খাবারে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে গণ-খাদ্য বিষক্রিয়ায় রূপ নেয়।

অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অধিকাংশকে বাড়িতে পাঠাবার ব্যবস্থা করা হলেও অন্তত ১৫ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসক জোকো পারিয়ান্তো জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর বিশেষ উদ্যোগে দেশটির কোটি কোটি শিক্ষার্থীর পুষ্টিহীনতা দূর করতে কোটি কোটি ডলারের এই বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে সূচনালগ্ন থেকেই এই বৃহৎ প্রকল্পটি অনিয়ম, চরম ব্যবস্থাপনা ত্রুটি, দুর্নীতি এবং ঘন ঘন গণ-খাদ্য বিষক্রিয়ার মতো নানা বিতর্কের মুখে পড়েছে। অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকরা এখন এই কর্মসূচির মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *