দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় সংসদে নিজের অভিজ্ঞতা ও আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। দীর্ঘ অসুস্থতা ও বিদেশ থেকে চিকিৎসা শেষে ফিরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন বিএনপি-র এই জ্যেষ্ঠ নেতা। ২০০৬ সালের পর সংসদে এটিই তাঁর প্রথম উপস্থিতি ও বক্তব্য।
প্রবল শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন ছিলেন মির্জা আব্বাস। নবগঠিত সংসদের অধিবেশনগুলোতে তাঁর নির্ধারিত চেয়ারটি খালিই পড়ে থাকত। চিকিৎসা শেষে সদ্য দেশে ফিরে তীব্র শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে আসেন। স্পিকার বক্তব্যের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করলে তিনি আসন থেকে ওঠার পরিবর্তে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হুইলচেয়ারে বসেই লিখিত বক্তব্য পাঠ শুরু করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে গভীর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে এলে এবং চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো সংসদকক্ষে নেমে আসে এক নীরবতা। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা গভীর মনোযোগ ও স্তব্ধতার মধ্য দিয়ে তাঁর হৃদয়স্পর্শী কথাগুলো শোনেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনারা জানেন আমি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন আছি। আজকের দিনটি আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ দুই দশক পর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দ ও গর্বের বিষয় কী হতে পারে?”
চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সার্বিক খোঁজখবর রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং সহকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, সবার এই আন্তরিক আচরণ তাঁকে মানসিকভাবে স্পর্শ করেছে। কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা ও দোয়াই তাঁকে সাহস জুগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জীবনের বাকি দিনগুলোতে যেন সততার সাথে দেশের ও জনগণের সেবা করে যেতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

