নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর প্রলয়ঙ্করী বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে। দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিআরআরএমএ) রোববারের (৩০ আগস্ট) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২,৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ৮৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে সেনাসদস্য ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন অন্তর্ভুক্ত।
সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, চিতওয়ান জেলা থেকে সর্বোচ্চ ২৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্ট ও ওয়েস্ট, গোরখা, নুয়াকোট, ধাদিং, তানাহুন এবং রাসুয়া জেলা থেকেও বহু নিহতের মরদেহ ও অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। পানির প্রচণ্ড স্রোতে মানুষ ও অবকাঠামো ভাটির অঞ্চলে ভেসে যাওয়ায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে শত কিলোমিটার দূর থেকেও মরদেহ সংগৃহীত হচ্ছে। অন্যদিকে, রাসুয়া জেলায় সর্বোচ্চ ৫৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন কর্মী ও ৫৮৯ জন বিদেশি পর্যটক এখনো সন্ধানহীন।
উপদ্রুত অঞ্চলে অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মোট ১৯,৮৯৫ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যায় আহত ২৪২ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যেও নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল সরকার।

