মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ইরান: আব্বাস আরাঘচি

মুসলিম দেশসমূহ এবং বিশেষ করে নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে নিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের অবৈধ হামলা প্রতিহত করার বিষয়ে তেহরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিটি কনফারেন্সের একটি সেশনে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে মিসর ও লেবাননের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কায়রো আগ্রহ প্রকাশ করলেই তাদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। মিসরের সাথে একটি ইতিবাচক এবং পারস্পরিক বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশ তৈরির বিষয়ে ইরান ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

তবে লেবানন প্রসঙ্গে কথা বলার সময় দেশটির সরকার ও সর্বস্তরের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের আশ্বাস দিলেও, বৈরুতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাম্প্রতিক নীতির সমালোচনা করেন আরাঘচি। তিনি মন্তব্য করেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবাননের পররাষ্ট্র বিভাগকে আরও বেশি যৌক্তিকতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেননি তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম ও আরব দেশে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই প্রতিবেশী বা কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালায়নি। তবে সেসব অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে এবং সম্পর্কিত রাষ্ট্রগুলোকে এ বিষয়ে পূর্বেই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। মূলত চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার পর থেকেই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *