ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মারাত্মক গ্যাস সংকটের কারণে গত ২৬ দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) পরিচালিত এই কেন্দ্রটির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসার পাশাপাশি স্থানীয় দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং ও চরম ভোগান্তি।
১৯৯৭ সালে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শম্ভুগঞ্জের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সরবরাহের অভাবে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না। যেখানে প্রতিদিন ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৯ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না। সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্ল্যান্টটির উৎপাদন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ায় পুরো বিভাগে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা শহরে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। তীব্র গরমে শিশু ও প্রবীণদের অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খামারগুলোতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি গ্যাসের দ্বৈত সংকটে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ জানান, জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

