প্রধান খবর

‘আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব সেটি পুরো ধসে গেছে’: নেপালে সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান

একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস আর অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে চরম প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগ ও বিপদের মুখে পড়েছেন দেশের পরিচিত সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশে ফেরার মূল সড়ক পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত দুই দিন ধরে দেশটির বিখ্যাত পর্যটন এলাকা ঘান্দ্রুকে দলবলসহ অবরুদ্ধ হয়ে আছেন তিনি। যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা ধসে পড়া এবং বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কসহ ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম মানসিক উদ্বেগ ও নগদ অর্থসংকটে দিন কাটাচ্ছেন এই তরুণ শিল্পী।

জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে নেপাল যান তাসরিফ খান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার দেশটির গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার অন্নপূর্ণ অঞ্চলের ঘান্দ্রুক গ্রামে পৌঁছান তারা। পরদিন বুধবারে তাদের ফেরার কথা থাকলেও বিরেঠাঁটি-ঘান্দ্রুক সংযোগ সড়কের একাধিক স্থান মোদি খোলা নদীর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ধসে যায়। ফলে সেখান থেকে বের হওয়ার সব ধরণের পথ রাতারাতি বন্ধ হয়ে পড়ে। সময়মতো বের হতে না পারায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন উল্লেখ করে তাসরিফ বলেন, ‘আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব, সেটি পুরো ধসে গেছে। কিছুটা দেরি করে বের হওয়াতেই সৃষ্টিকর্তা আমাদের বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।’

বর্তমানে দুর্গম পাহাড়ের ওপর আটকা পড়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে তাদের আর্থিক লেনদেনে। কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা তোলার কোনো সুযোগ না থাকায় সীমিত হাতে থাকা নগদে টানা দিন পার করতে হচ্ছে। এদিকে আকাশপথে ফিরবেন তারও কোনো বিমানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকারী গাইডের মাধ্যমে বিকল্প হেঁটে ফেরার পথ খোঁজা হলেও পাহাড়ি ধসের মধ্যে নদী তীর ঘেঁষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি।

টানা ব্যস্ততার পর একটু অবসরের জন্য পাহাড়ে গেলেও এখন শুধুই নিরাপদে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন এই সংগীতশিল্পী। অতি সম্প্রতি তার রোমান্টিক ঘরানার গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছিল এবং দেশে ফিরে ‘জীবনের চাকা’ নামের আরেকটি নতুন গানের কাজ শুরু করার কথা ছিল। তবে এখন সব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আপাতত সব পরিকল্পনা স্থগিত রেখে সুস্থ ও নিরাপদে প্রিয়জনদের মাঝে ফিরতে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তাসরিফ খান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *