বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মারুফ হাসান ওরফে বাবু (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আটক বাবু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তবে উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তাকে দলের কেউ নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া কালিবাড়ি রোডের বিলাসী মেডিসিন স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে একটি দল মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরে তার পরিহিত পোশাক তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো সাড়ে চার গ্রাম ওজনের ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হাসান উপজেলার চুপিনগর উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি নিয়মিত জামায়াতের মিছিল ও বিভিন্ন দলীয় সমাবেশে উপস্থিত থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মারুফ স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন স্থান থেকে সুকৌশলে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে শহরের নানা প্রান্তে বিক্রি করে আসছিলেন। পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টাকালে পড়ে গিয়ে তিনি কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
আটক যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার জবাবে শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত মারুফ জামায়াতের কোনো স্তরের সদস্য বা কর্মী নন। দলীয় তালিকায় তার কোনো অস্তিত্ব নেই। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কেউ মিছিলে হাঁটলেই সে জামায়াত কর্মী হয়ে যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবদ্ধ দল এবং এখানে চাইলেই হুট করে কেউ এসে সদস্যপদ পায় না। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

