শ্রাবণ মাসে নিরামিষ ভোজনের নিয়ম ভেঙে বাড়িতে খাসির মাংস রান্না করার জেদ করায় ৩০ বছর বয়সী নিজের সন্তানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, চরম এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সত্যতা গোপন রাখা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টার অপরাধে নিহতের মাকেও আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনের ওয়ারজে মালওয়াড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার নিহত যুবকের নাম মহেশ গায়কোয়াড় (৩০)। ভারতীয় প্রচলিত সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শ্রাবণ মাসকে অতি পবিত্র মনে করে পুরো মাসজুড়ে নিরামিষ আহার পালনের রীতি রয়েছে। মহেশের পরিবারেও এই কঠোর ধর্মীয় নিয়ম মেনে সব ধরনের মাছ-মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন যুবক মহেশ পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বাড়িতে খাসির মাংস রান্না করে খাওয়ার জন্য ক্রমাগত জেদ ও অনড় অবস্থান প্রকাশ করতে থাকেন।
মাংস রান্না করা নিয়ে একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে মহেশের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে আত্মসংযম হারিয়ে বাবা লাঠি তুলে নিয়ে নিজের ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। লাঠির আকস্মিক ও মারাত্মক জখমে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মহেশ। ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন নিহতের মা। তিনি স্বামীকে বাঁচানো ও ঘর থেকে রক্তের আলামত মোছার আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
গোপন সূত্রের খবর পেয়ে ওয়ারজে মালওয়াড়ি থানা পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতক বাবা এবং আলামত লোপাটে সহায়তাকারী মা-উভয়কেই গ্রেফতার করে হাজতে পাঠায়। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় হত্যা ও অপরাধমূলক তথ্য-প্রমাণ ধ্বংসের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

