প্রধান খবর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত মাইক বা লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে নতুন করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ কমিটিগুলোর অভিযোগ, থানার পুলিশ মৌখিকভাবে মাইক খুলে ফেলার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়; বরং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দাবি তুলে নবগঠিত এনসিপিআই-এর তিন সংসদ সদস্য-সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা একটি স্মারকলিপি প্রদান করে বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতেই পারে, তবে তা যেন কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত না হানে এবং সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা সমভাবে সুরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে প্রতিনিধিদল নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশ।

মূলত বর্তমান রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণ বিধি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। নিয়ম অনুযায়ী, দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলায় ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা আইনিভাবে দণ্ডনীয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকার কেবল আদালতের আইনি আদেশ পালন করছে। পুলিশি নির্দেশনার পর এ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫,২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে-যার মধ্যে ৪,২০৩টি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দির রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ কোনো বলপ্রয়োগ করেনি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানান, দ্রুত এর সম্মানজনক সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী প্রয়োজনে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশিকা জারি হয়েছে কি না, তা জানতে ডিজিপির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবারই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত অবস্থান পরিহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *