প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে হিমালয় কন্যা নেপাল। দেশটির উত্তর- মধ্যাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের পর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বানের তোড়ে ভেসে যাওয়া ও কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে নেমেছেন উদ্ধারকর্মীরা। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত বুধবার সকালে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলে বিশাল আকারের বানের পানি ধেয়ে আসে রাসুয়া জেলার দিকে। এতে নিমেষেই ফুলেফেঁপে ওঠে স্থানীয় ত্রিশূলি, নারায়নি ও ভোটকোশি নদী। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে উপর থেকে নেমে আসা কাদামাটি, বিশাল আকারের পাথর ও ধ্বংসাবশেষ যুক্ত হয়ে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই আকস্মিক বানের শক্তি এতই বেশি ছিল যে তা চলাচলের পথে থাকা সব ধরনের অবকাঠামো নিমেষেই গুঁড়িয়ে দেয়। শত শত ঘরবাড়ি, সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে ভেসে গেছে এই প্রলয়ঙ্করি বন্যায়।
বন্যার পানির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঘন কাদামাটি। বানের তোড়ে আটকে পড়া সাধারণ মানুষদের একটি বড় অংশ এই ভারী কাদার নিচে আটকা পড়ে মারা গেছেন। নিখোঁজদের খোঁজে বর্তমানে বিশাল এলাকাজুড়ে কোদাল, ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী কুকুর নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাদার নিচ থেকে একের পর এক বের হয়ে আসছে নিখোঁজদের নিথর দেহ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল যৌথভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। দুর্গত এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য নতুন কোনো পাহাড়ি ঢল বা নতুন করে বন্যা দেখা দিলে যাতে অতিরিক্ত প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য পুরো নদী তীরবর্তী ও ঢালু অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে শুধু নেপালই নয়, পার্শ্ববর্তী চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিব্বত সীমান্তেও বানের তোড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে এবং সেখানে কয়েকজন মারা গেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এখনো অন্তত ৩০০ জন মানুষ সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল এবং তিব্বত-উভয় অঞ্চলেই নিখোঁজদের উদ্ধারে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই জরুরি উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

