ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করি বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কিছুদিন এই অঞ্চলজুড়ে ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গিরিডি জেলায় প্রাণ হারানো ১০ জনের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ খেতমজুর। খোলা মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তাঁরা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
হঠাৎ নেমে আসা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আকস্মিক এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছরই বিপুল প্রাণহানি ঘটে। আবহাওয়া বিভাগের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদায়ী ২০২৫ সালেও রাজ্যটিতে বজ্রপাতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন—যা সেখানকার আবহাওয়াজনিত প্রাণহানির ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।
ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য অংশেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশগত চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অবিরাম ও প্রবল বর্ষণের ফলে উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা, যা হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে তুলেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণের রাজ্য কেরালাতেও ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ঘরবাড়ি ছেড়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন অগণিত মানুষ এবং উভয় রাজ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

