সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে সদ্য গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ (এমজেডিএ) নতুন যেকোনো দেশের যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইসলামাবাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুখপাত্র আরও পরিষ্কার করেন যে, এই চুক্তি কোনো ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতা তৈরি করার জন্য নয়, বরং এটি মূলত একটি আঞ্চলিক আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও মূল্যবোধ রয়েছে এমন যেকোনো সমমনা রাষ্ট্র ইচ্ছা প্রকাশ করলে এই জোটে নাম লেখাতে পারে। তবে কোনো নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে চুক্তিটির মূল তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ-সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন পড়বে। তবে বর্তমানে পুরো সমঝোতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখাটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে এই যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া নিয়ে ঢাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, জোটে যোগদানের ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মক্কা জোটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে তা জাতীয় স্বার্থের আলোকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় বহুল আলোচিত এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম মূল ধারা অনুযায়ী-সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা জোটের বাকি দেশগুলোর ওপরও আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌথ মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের কারিগরি আদান-প্রদান এই জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য।

