প্রধান খবর

‘আমি না থাকলে কবরের কাছে একটু যাইও’: ভিডিওবার্তা রেখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

‘আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যাইও তুমি। আমার একা থাকতে ভয় করে। একটু যাইও তুমি। তোমাকে অনেক ভালোবেসে বাপ-মা ছেড়ে আইছিলাম, আমি আর মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না।’-স্বামীর উদ্দেশ্যে ঠিক এমনই একটি হৃদয়বিদারক ও আবেগঘন ভিডিওবার্তা রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মেঘনা খাতুন (২১) নামের এক তরুণী গৃহবধূ।

মৃত্যুর আগে নিজ মুঠোফোনে ধারণ করা ওই আবেগঘন ভিডিওতে স্বামীর পরকীয়া এবং শ্বশুরবাড়ির অসহনীয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের করুণ বর্ণনা তুলে ধরেন ওই নারী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গতকাল ৩ আগস্ট (সোমবার) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মেঘনা খাতুনের। এর আগের দিন রোববার পাবনার ঈশ্বরদীর নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নিহত মেঘনা খাতুন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের শফি মণ্ডলের ছেলে আজম আলী মণ্ডলের স্ত্রী। তাঁর পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। জানা যায়, চার বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে আজম আলীর সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন মেঘনা। তাঁদের সংসারে একটি ফুটফুটে ছেলেসন্তান রয়েছে। স্বামী পেশায় একজন মোটর মেকানিক।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রথম কয়েক বছর দাম্পত্য জীবন সুখে কাটলেও পরবর্তী সময়ে পরকীয়া ও পারিবারিক কলহ শুরু হয়। ধারণকৃত ভিডিওতে মেঘনা কান কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বামী আজম, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং আসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করতেন এবং বুকে জড়িয়ে ভালোবাসতেন না। এমনকি মৃত্যুর কিছু দিন আগেও তাঁর গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সন্তান যেন বাবার কাছেই থাকে এবং মাঝে মধ্যে নানার বাড়ি যেতে পারে-এমন আকুতিও জানান তিনি। ভিডিওর শেষ অংশে স্বজনদের উদ্দেশ্যে তিনি মোবাইলের লক কোড (৩৩১৬) বলে যান, যেন সবাই তাঁর ধারণ করা প্রমাণগুলো দেখতে পারে।

ঘটনা জানাজানির পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আজম আলী ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাঁদের কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, ভিকটিম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়ায় সেখানে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি ঈশ্বরদী থানায় জিডিভুক্ত করে রাখা হয়েছে। নিহতের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত (৪ আগস্ট) পরিবার থেকে কোনো লিখিত এজাহার জমা দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই পুলিশ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *