রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এমনকি পূর্বের বিভিন্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ও তরুণীকে একইভাবে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনার তথ্য তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি ভাড়া বাসায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অপরাধ স্বীকার করে পোস্ট দিলে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মুমতাহীন ইসলাম ইনান তাঁর এক নারী সহপাঠীকে বাইরে দেখা করার কথা বলে কৌশলে তাঁর বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কোকা-কোলার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ওই ছাত্রীকে অর্ধ-অচেতন করা হয়। এরপর ইনান ও তাঁর বন্ধু আহসান কবির নাফিম মিলে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তবে ভুক্তভোগী ছাত্রী অর্ধ-অচেতন অবস্থাতেই ধস্তাধস্তি করে কোনোমতে বাসা থেকে বেরিয়ে নিজের আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনার পর সহপাঠীরা অভিযুক্তদের মুখোমুখি করলে তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য একাধিক মেয়েকে একই কৌশলে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনার চিত্র উঠে আসে। পরবর্তীতে ইনান নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্বীকারোক্তিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে দীর্ঘদিনের এই অপরাধমূলক প্রবণতার কথা স্বীকার করেন।
এই ঘটনার পর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়নবিরোধী সেল ‘শিবরেক’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘অফিস অফ কমিউনিকেশন্স’ থেকে জানানো হয়েছে, নারীদের ওপর যেকোনো সহিংসতার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নীতিমালার আওতায় যাচাই-বাছাই করে দ্রুত যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

