প্রধান খবর

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, জানে না কেউ

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ভাস্কর্যটি গত কয়েক দিন ধরে ভাঙার কাজ চলছে। তবে প্রশাসনের কোন স্তরের নির্দেশনায় বা কী কারণে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অপসারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানের ভাস্কর্য এভাবে চুপিসারে ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 বেশ কয়েকজন শ্রমিক চত্বরটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলার কাজ করছেন। বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ভাস্কর্যটি কেন অপসারণ করা হচ্ছে তা তার জানা নেই। তিনি এর দায় জেলা প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে দেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই স্থাপনা ভাঙার কাজ করছে না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা সড়ক বিভাগ পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে বলে তার ধারণা। তবে তিনি জানান, জেলা পুলিশ লাইন্সের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 উদ্বেগের বিষয় হলো, সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানও দাবি করেছেন, কে বা কারা এটি অপসারণ করছে সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ভাস্কর্যটি ২০২৪ সালের আগস্টের পর দুই দফা ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল এবং এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছিল। কয়েকটি সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও ভাঙার দায়িত্ব কেউ নিতে রাজি হয়নি এবং বর্তমানে কারা কাজটি করছে তাও তিনি জানেন না। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি এম মজিদ জানান, শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার এই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘদিনের অবহেলায় এটি আর পূর্ণতা পায়নি, উল্টো একপর্যায়ে আগাছায় ঢেকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান পুরো জাতির গর্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে তার আত্মত্যাগ তুলে ধরতে জেলার প্রবেশমুখে এমন একটি চত্বর থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন হামিদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাববীরশ্রেষ্ঠলাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *