প্রধান খবর

ভাইরাল ছবির আড়ালে সত্য: ইসরায়েল নয়, মেসি আগে গিয়েছিলেন ফিলিস্তিনে

বিশ্বফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট ছবি ভাইরাল হতে দেখা যায়, যেখানে তাকে জেরুজালেমের পবিত্র পশ্চিম প্রাচীরে (ওয়েস্টার্ন ওয়াল) প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা যায়। ইন্টারনেট দুনিয়ায় সেই ছবি পুঁজি করে অনেকেই দাবি করেন, আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি কেবল ইসরায়েল সফর করেছিলেন এবং দেশটির প্রতি সংহতি জানিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্টচেক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং এতে প্রকৃত ঘটনার একটি আংশিক অসম্পূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রকৃত ঘটনাটি অনুসন্ধান করে জানা যায়, ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহীপিস ট্যুর’ (Peace Tour)-এর অংশ হিসেবে সতীর্থদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তবে বহুল আলোচিত এই সফরের শুরুতেই মেসি তার দল ইসরায়েলে নয়, বরং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের (ওয়েস্ট ব্যাংক) ঐতিহাসিক বেথলেহেমে যান। সেখানে তারা খ্রিস্টধর্মের পবিত্র স্থানচার্চ অব দ্য ন্যাটিভিটিপরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। একই দিনে হেবরনের কাছে দুরা শহরে ফিলিস্তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আয়োজিত একটি ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও (ফুটবল ক্লিনিক) অংশ নেন বার্সেলোনার তারকারা।

ফিলিস্তিন সফর সফলভাবে শেষ করার পরদিন বার্সেলোনা দল জেরুজালেমে প্রবেশ করে। সেখানে মেসি তার সতীর্থরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ওয়েস্টার্ন ওয়াল পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেস প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই সফরের অংশ হিসেবেই তেল আবিবে ইসরায়েলি শিশুদের নিয়েও একটি পৃথক ফুটবল ক্লিনিক পরিচালনা করা হয়েছিল।

বার্সেলোনা ক্লাবের এই বিশেষ সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল খেলাধুলার সার্বজনীন শক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি শিশুদের মাঝে শান্তি, সম্প্রীতি সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। সে কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিন সফরের অংশটিকে সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে শুধু ইসরায়েল সফরের ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ঐতিহাসিক যাচাইযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ওই ঐতিহাসিক শান্তি সফরে মেসি প্রথমে ফিলিস্তিনের বুক ছুঁয়েছিলেন, তার পরেই তিনি ইসরায়েলে পা রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *