যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মহাশয়তান’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের জন্য এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে গত মাসে হওয়া শান্তি সমঝোতা বারবার লঙ্ঘন করার জন্য তিনি ওয়াশিংটন প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
শনিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে পাঠ করা এক বিশেষ লিখিত বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। গত মাসে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন বিশ্ব দরবারে আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো আইনি মূল্য বা বৈধতা নেই। মার্কিন প্রশাসন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সবার কাছে পরিষ্কার করেছে যে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চুক্তি এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন। দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এই সর্বাত্মক যুদ্ধকে ইরান তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের তীব্র সামরিক চাপের মুখেও নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না তেহরান। সম্প্রতি ইরানে মার্কিন হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; বিশেষ করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেলপথ এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান, যার ফলে কুয়েতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ওপর বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা ও নতুন করে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে, যা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সেই শান্তি প্রচেষ্টা এখন সম্পূর্ণরূপে ভেস্তে গেছে।

