তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (এইওআই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে অত্যন্ত বর্বর ও আগ্রাসী এক পদক্ষেপের মাধ্যমে রোববার দেশটির খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত নির্মাণাধীন ‘দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে’ কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী। স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটের দিকে ওই সুরক্ষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ঠিক কী ধরনের ও কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি এইওআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত কারিগরি পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। এইওআই মার্কিন এই প্রত্যক্ষ ও আগ্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানে ২০২২ সালে এই বিশেষ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা এক সপ্তাহ ধরে সিরিজ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। অবশ্য এই মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা একাধিক স্ট্র্যাটেজিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীও।
অথচ, দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালিতে’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তেহরান নতুন করে বাধা দিচ্ছে-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার পর চুক্তি ভেঙে দেশটিতে আবারও নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবস্থা তৈরির আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

