প্রধান খবর

কিয়েভে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: হতাহত একাধিক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার (১৯ জুলাই) ভোররাতে চালানো কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই নজিরবিহীন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাজধানীর পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলেও ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভের ওপর সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে অভিহিত করে একে একটি ‘নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মস্কোর এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানান। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রুশ হামলায় কিয়েভের অন্তত ছয়টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস এবং অসংখ্য যানবাহনে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং ইতিমধ্যে একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে কেন্দ্রীয় ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলা চালানো হলে ট্রেনটির এক কন্ডাক্টর নিহত হন। হামলার পর ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ জ্বলন্ত বগির একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া মোট ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে আকাশপথে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় দেশটি এখনও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এদিকে পাল্টা আঘাত হিসেবে ইউক্রেন দাবি করেছে, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলবাহী ট্যাংকারে সফল দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে তাদের বাহিনী। রুশ দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত করাই ছিল ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য। এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও আকাশসীমা রক্ষা এখন তাদের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনকে রক্ষা করতে প্রতিদিনই আরও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিশ্রুত সামরিক সহায়তা দ্রুততম সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *